‘সুস্থ থাকি, আনন্দে থাকি, নিরাপদ থাকি’—এই লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য সুরক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা প্রধানত দুই ধরনের রোগের মুখোমুখি হই—সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ; এদের উৎপত্তি ও প্রতিরোধের উপায় নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
- অপরিষ্কার হাত ও দূষিত খাবার: হাতে লাগা ধুলো-ময়লা ও জীবাণু খাবার প্রস্তুত, পরিবেশন বা খাওয়ার সময় পেটে প্রবেশ করে সংক্রামিত হয়। কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ খাবার এবং বাসি-পচা খাবারে থাকা জীবাণুও শরীরে রোগ সৃষ্টি করে।
- পানিবাহিত মাধ্যম: অনিরাপদ ও জীবাণুযুক্ত পানি পান বা ব্যবহারের মাধ্যমে টাইফয়েড, cholera, ডায়রিয়া ও হেপাটাইটিস-বি এর মতো রোগ দ্রুত ছড়ায়।
- বায়ুবাহিত মাধ্যম: আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি বা কাশি দিলে তার মুখের লালা বা নাকের পানির সূক্ষ্ম কণা বাতাসের সাথে মিশে যায়। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সেই জীবাণুযুক্ত বাতাস সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ঢুকলে জলবসন্ত, ইনফ্লুয়েঞ্জা, যক্ষ্মা ও কোভিড-১৯ ঘটে।
- পতঙ্গ ও বাহক (Vectors): মশার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের জীবাণু স্থানান্তরিত হয়।
- প্রাণীর কামড়: জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুর, বিড়াল বা অন্যান্য বন্য প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে এই মারাত্মক রোগ ছড়ায়।
যেসব রোগ এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে ছড়ায় না, কিন্তু জীবনযাত্রার ভুল অভ্যাস, বংশগত কারণ বা পরিবেশের প্রভাবে দীর্ঘদিন ধরে শরীরে দানা বাঁধে, সেগুলোকে অসংক্রামক রোগ বলে।
| তুলনার বিষয় | সংক্রামক রোগ | অসংক্রামক রোগ |
| ছড়ানোর ক্ষমতা | এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়ায়। | ছড়ায় না; ব্যক্তির নিজস্ব শারীরিক অবস্থায় সীমাবদ্ধ। |
| প্রধান কারণ | ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও পরজীবী। | অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অলসতা, খাদ্যাভ্যাস ও বংশগতি। |
| উদাহরণ | ডেঙ্গু, কোভিড-১৯, টাইফয়েড, ডায়রিয়া। | ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, প্যারালাইসিস। |
- নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম: প্রতিদিন অন্তত ৩০-৬০ মিনিট আউটডোর খেলাধুলা, সাঁতার কাটা বা ব্যায়াম করা।
- খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড, প্রসেসড ফুড ও সব ধরনের কোমল পানীয় (Soft Drinks) সম্পূর্ণ বর্জন করা।
- পর্যাপ্ত ঘুম ও শারীরিক বিশ্রাম: রাত না জেগে প্রতিদিন নিয়ম মেনে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো।
- মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে মুক্ত মনে থাকা, শখ পূরণ ও স্বজনদের সাথে সময় কাটানো।
ষষ্ঠ শ্রেণির ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা’ পাঠ্যবই, অন্যান্য সহায়ক বই, ইন্টারনেট এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে শিক্ষার্থীরা দলগতভাবে বিভিন্ন রোগের তথ্য ও প্রতিরোধমূলক ধারণার একটি খসড়া প্রস্তুত করবে। শিক্ষক সেই খসড়া যাচাই করে সংশোধন ও চূড়ান্ত করে দেবেন।
দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও পরিচ্ছন্নতা মেনে চললে বেশিরভাগ সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ থেকেই নিজেকে মুক্ত রাখা সম্ভব, যা আমাদের দেবে একটি দীর্ঘ, কর্মক্ষম ও আনন্দময় জীবন।
