চলো বন্ধু হই

স্বাভাবিক ও টেকসই বন্ধুত্ব পারস্পরিক আনন্দ, সম্মান এবং বিপদে-আপদে পাশে থাকার গভীর আন্তরিকতার ওপর গড়ে ওঠে। ‘চলো বন্ধু হই’ পাঠের মূল উদ্দেশ্য হলো তাত্ত্বিক বন্ধুত্বের বাইরে এসে শ্রেণিকক্ষের লাজুক বা বিচ্ছিন্ন সহপাঠীর দিকে স্বতঃস্ফূর্ত বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

১. ‘প্রিয় বন্ধু’ হওয়ার ৬টি সুনির্দিষ্ট ধাপের পথচলা
ধাপের ক্রমধ্যায়ন ও কার্যক্রমঅর্জিত মূল শিখন
১ম ধাপপ্রিয় বন্ধুর সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য অনুসন্ধানভালো বন্ধুত্বের মানদণ্ড চেনা।
২য় ধাপনিজের বিদ্যমান বন্ধুত্বের গল্প বিশ্লেষণকেন নির্দিষ্ট কেউ প্রিয় তা অনুধাবন করা।
৩য় ধাপবন্ধুত্ব অনুশীলনের পরিধি অনুধাবনপরিচিত গণ্ডির বাইরে সহমর্মিতার প্রসার।
৪র্থ ধাপনতুন (কম কথা বলা/একাকী) বন্ধু নির্বাচনশ্রেণিকক্ষে বৈষম্য ও একাকীত্ব দূরীকরণ।
৫ম ধাপ১ মাসের আচরণগত চর্চা ও সম্পর্ক সুদৃঢ়করণশেয়ারিং ও ‘আমি-বার্তা’র মাধ্যমে আস্থা তৈরি।
৬ষ্ঠ ধাপ‘বন্ধুত্ব উৎসব’ উদযাপন ও শপথ গ্রহণযৌথ আনন্দ প্রকাশ ও সম্পর্ক স্থায়ী করা।

 

২. প্রিয় বন্ধু হয়ে ওঠার ৪টি আচরণগত কৌশল
কৌশলের ক্ষেত্রবাস্তব জীবনের পদক্ষেপকাঙ্ক্ষিত সামাজিক ও আবেগিক প্রভাব
১. ইতিবাচক সূচনাহাসিমুখে কুশল জিজ্ঞেস করা, সাথে বসার আমন্ত্রণ জানানো।সহপাঠীর মনের দ্বিধা, ভয় ও জড়তা দূর হয়।
২. সক্রিয় শ্রবণ (Active Listening)তার আগ্রহ, আনন্দ বা কষ্টের কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনা।বন্ধু নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত মনে করে।
৩. উপাদান ও সময় ভাগাভাগিটিফিন, খাতা-কলম ও খেলার সময় পরস্পর শেয়ার করা।কৃত্রিমতা দূর হয়ে পারস্পরিক নির্ভরতা তৈরি হয়।
৪. আস্থার সুরক্ষাবন্ধুর দুর্বলতা নিয়ে উপহাস না করা ও গোপনীয়তা রাখা।সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সুদৃঢ় হয়।

 

৩. বন্ধুত্ব স্থাপনে বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চিন্তাধারা
  • একাকী সহপাঠীকে প্রাধান্য: শ্রেণিকক্ষে যারা শান্ত, লাজুক বা একা থাকে, তাদের খুঁজে বের করে আগে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
  • পূর্বধারণা (Prejudice) দূরীকরণ: কারও বাহ্যিক রূপ, গায়ের রং, শারীরিক ব্যাকগ্রাউন্ড বা মেধা দেখে বিচার না করে সহমর্মিতা দিয়ে মানুষকে চেনা।
  • পারস্পরিক সহনশীলতা: মতামত বা পছন্দের অমিল থাকলেও বন্ধুকে ছোট না করে তার চিন্তাকে সম্মান জানানো এবং ভুল হলে একা ডেকে বুঝিয়ে বলা।

 

চলো বন্ধু হই

 

৪. ‘বন্ধুত্ব উৎসব’ উদযাপনের ৪-ধাপের ব্যবহারিক পরিকল্পনা
  • ১. নিমন্ত্রণপত্র বিনিময়: রঙিন পাতা বা হাতে আঁকা চিরকুট দিয়ে নতুন বন্ধুকে উৎসবের জন্য আমন্ত্রণ জানানো।
  • ২. ‘বন্ধুত্বের গল্প’ পরিবেশন: ক্লাসের সবার সামনে নতুন বন্ধুকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তার অন্তত ২টি ভালো গুণ তুলে ধরা।
  • ৩. যৌথ বিনোদনমূলক অংশগ্রহণ: নতুন ও পুরোনো বন্ধুরা মিলে দলগত খেলা, ছড়া বলা বা কমিক প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া।
  • ৪. ‘ধন্যবাদ ও প্রতিশ্রুতি’ কার্ড প্রদান: ভবিষ্যতে একে অপরের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং সৎ পথের সঙ্গী হওয়ার যৌথ শপথ গ্রহণ।
ভালো বন্ধু পাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও টেকসই উপায় হলো নিজে একজন নিঃস্বার্থ, বিশ্বস্ত ও দায়িত্বশীল বন্ধু হয়ে ওঠা। শ্রেণিকক্ষে গড়া এই বন্ধন শিক্ষার্থীদের মধ্যে হিংসা, বুলিং ও একাকীত্ব দূর করে এবং আজীবন সহমর্মী মানুষ হিসেবে টিকে থাকার প্রেরণা জোগায়।

মন্তব্য করুন