‘সুস্থ থাকি, আনন্দে থাকি, নিরাপদ থাকি’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে ষষ্ঠ শ্রেণির ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা’ বিষয়ে দৈনন্দিন জীবনে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। শরীর ও মনকে সতেজ রাখার পাশাপাশি সামাজিক সম্পর্কগুলোকে সুন্দর রাখতে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার একটি সমৃদ্ধ নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হলো।

১. খাদ্য, পুষ্টি ও পানি পানের অভ্যাস
- সুষম ও পর্যাপ্ত খাবার: শরীরের সঠিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সারাদিন কর্মক্ষম থাকার জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শর্করা, আমিষ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ সুষম খাবার রাখতে হবে।
- সকালের পুষ্টিকর নাস্তা: সকালের খাবার সারাদিনের শক্তির প্রধান উৎস। কোনো অবস্থাতেই সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া যাবে না।
- নিরাপদ পানি পান: শরীরের মেটাবলিজম ও সুস্থতা বজায় রাখতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৭-৮ গ্লাস (প্রায় ২ লিটার) বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।
- ক্ষতিকর খাবার এড়ানো: রাস্তার পাশের খোলা, ধুলোবালিযুক্ত ও কৃত্রিম রং বা রাসায়নিক মেশানো খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
২. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও দৈহিক যত্ন
- দাঁত ও মুখের যত্ন: দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে প্রতিদিন দু’বার—সকালে নাস্তার পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সঠিক নিয়মে ফ্লুরাইডযুক্ত পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে হবে।
- হাত ধোয়ার সঠিক অভ্যাস: যেকোনো খাবার খাওয়া বা স্পর্শ করার আগে, শৌচাগার ব্যবহারের পর এবং বাইরে থেকে ঘরে ফিরে অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।
- স্নান ও পোশাকের পরিচ্ছন্নতা: ত্বকের রোগ ও দুর্গন্ধ এড়াতে প্রতিদিন পরিষ্কার পানিতে সাবান মেখে স্নান করতে হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সুতি পোশাক পরিধান করতে হবে।
- নখ ও চুলের যত্ন: জীবাণু জমা রোধ করতে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে হাতের ও পায়ের নখ কেটে ছোট রাখতে হবে এবং চুল পরিচ্ছন্ন রাখতে নিয়মিত শ্যাম্পু বা সাবান ব্যবহার করতে হবে।
৩. শারীরিক নিয়মকানুন, বিশ্রাম ও শরীরচর্চা
- পর্যাপ্ত ঘুম ও সুনির্দিষ্ট রুটিন: দৈহিক ও মানসিক ক্লান্তি দূর করতে রাতে অন্তত ৮-৯ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। ‘আগে ঘুমানো ও ভোরে ঘুম থেকে ওঠা’ (Early to bed and early to rise) অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
- নিয়মিত শরীরচর্চা ও খেলাধুলা: প্রতিদিন বিকেলে বা নির্দিষ্ট সময়ে মুক্ত বাতাসে আউটডোর খেলাধুলা বা হালকা শরীরচর্চা অস্থি ও পেশি মজবুত করে এবং শরীরকে চাঙ্গা রাখে।
৪. মনের যত্ন ও সামাজিক সম্পর্কের বিকাশ
- মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা: শরীর ও মন একে অপরের পরিপূরক। ভালো থাকার জন্য দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা, বই পড়া, শখ পূরণ করা এবং মনের অনুভূতি প্রিয়জনের সাথে ভাগ করে নেওয়া জরুরি।
- ইতিবাচক সামাজিক সম্পর্ক: পরিবার, সহপাঠী ও বন্ধুদের সাথে সুন্দর আচরণের মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা মানসিক প্রশান্তি দেয়।

৫. অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন ও বাস্তব জীবনে চর্চা
- মুখস্থ নয়, বাস্তব প্রয়োগ: কেবল বইয়ের তথ্য পড়া বা মুখস্থ করার মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সীমাবদ্ধ নয়। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা এবং প্রাপ্ত জ্ঞান প্রতিদিনের জীবনে নিয়মিত চর্চা করাই এই শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য।
- স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও সচেতনতা: নিজের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে, যা আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা তৈরিতে সাহায্য করে।
